দেশে করোনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু

একাত্তর ডেস্ক :: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৩১ জন। শনিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ হাজার ৫৩১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৬ জন হল। আর এ সময়ে মারা যাওয়া ১৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ১৭৩ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৪৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন একই সময়ে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৫ টি ল্যাবে ১১ হাজার ৭৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৫ লাখ ২৭ হাজার ১৩৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন, নারী ৪ জন। তাদের ১৩ জন হাসপাতালে এবং ১ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিলো। মৃতদের মধ্যে ৮ জন ঢাকা বিভাগের, ২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ৪ জন রাজশাহী, খুলনা, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ১৭৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৭৫১ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৪২২ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২৩৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও, ১ হাজার ৬২৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৫৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৩১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪৮ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৪ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৭৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৮২ জন খুলনা বিভাগের, ২০৬ জন বরিশাল বিভাগের, ২৫৭ জন সিলেট বিভাগের, ২৭৭ জন রংপুর বিভাগের এবং ১২৯ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৫ অগাস্ট সেই সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনে সর্বাধিক। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২২তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩১তম অবস্থানে।