আরও ১৯ জনের মৃত্যু

একাত্তর ডেস্ক :: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৭৬৭ জন। শুক্রবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ হাজার ৭৬৭ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৬৫ জন হল। আর এ সময়ে মারা যাওয়া ১৯ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ১৫৯ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৫১৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন একই সময়ে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৭ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তা ২৬ অক্টোবর ৪ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সোয়া ৫ কোটি পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১২ লাখ ৯৩ হাজারের ঘরে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৪তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩১তম অবস্থানে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে। বৃহস্পতিবার ১১৫টি ল্যাবে ১৭ হাজার ১১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হলেও শুক্রবার ১৩ হাজার ৫৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৯টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ আর নারী ৬ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি এবং ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৩ জন রংপুর বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ৩ জন রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ১৫৯ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪১ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৪১৮ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২২৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ৬২৪ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৫৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৩১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪৮ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ৩ হাজার ২২৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২০৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৭৬ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৮১ জন খুলনা বিভাগের, ২০৬ জন বরিশাল বিভাগের, ২৫৭ জন সিলেট বিভাগের, ২৭৬ জন রংপুর বিভাগের এবং ১২৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।