ঢাকায় ৯ বাসে আগুন

ঢাকা। বৃহস্পতিবার। ছবি: সংগৃহীত।

একাত্তর ডেস্ক ::

রাজধানীতে চার ঘণ্টায় নয় বাসে সিরিজ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন চলাকালে পৃথক নয় স্থানে এমন ঘটনা ঘটে। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে যাত্রীবেশে উঠে দুর্বৃত্তরা বাসগুলোয় আগুন দেয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের দিন এতগুলো বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে আতঙ্কও তৈরি করেছে। এছাড়া অগ্নিকাÐের ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতেও নগরবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ ঘটনার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপির বেশ কিছু নেতা। বৃহস্পতিবারে ঘটনার পর পুলিশ বলছে, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। রাজধানীকে উত্তপ্ত করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে আগুন দেওয়া হয়েছে। এদিকে বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। এসব বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নেতারা এই অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেছেন, বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইলে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। অপরদিকে ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কখনোই জড়িত নয় দাবি করেছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি আগুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী- শাহজাহানপুর, মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হল, পূবালী ফিলিং স্টেশনের কাছে, পীর ইয়ামেনী মার্কেট, নাইটিঙ্গেল মোড়, আজিজ সুপার মার্কেট, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, ভাটারায় কোকাকোলা মোড় এবং সচিবালয়ের ৫নং গেটের কাছাকাছি বাসগুলোয় আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ অফিসের ডিউটি অফিসার।

পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুর ২টায় রজনীগন্ধা পরিবহনের একটি বাস পল্টন মোড়ে যাত্রী নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে আসতেই গাড়ির পেছনে আগুন দেখা যায়। যাত্রীদের কেউ কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাস পুড়ে যায়। এর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে আগুনের ঘটনা ঘটে শাহজাহানপুরে। সেটাই দিনের প্রথম ঘটনা। তার কিছুক্ষণ পর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনেও একটি বাসে আগুন লাগানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ৬টি বাসে আগুন লাগে। তবে সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে, বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কোকাকোলায়। খবর পেয়ে সবখানেই ছুটে গেছেন দমকল কর্মীরা। চেষ্টা করেছেন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে কোনো মহল পূর্বপরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন লাগিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। সিরিজ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করবে পুলিশ।

পল্টন ও মতিঝিল থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক চারটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এদিন কাছাকাছি সময়ের মধ্যে বাসগুলো জ্বলে ওঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ধরন দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি পূর্বপরিকল্পিত।