১৩৫ বছর আগের লাতুর ট্রেন আসছে

বিশেষ প্রতিনিধি :: ১৮৮৫ সালে ফিরছে সিলেট এবং আসামের রেলপথ। ওপারে লাতু-মহিষাশন, কুকিতাল- বিলবাড়ি সীমান্ত। বিপরীতে বিয়ানীবাজার সুতারকান্দি-নোয়াগ্রাম হতে জুড়ি উপজেলার শিলুয়া সীমান্ত। কিন্তু বড়লেখা এবং ‘লাতু ট্রেনে’র নামযশ আবার ছড়িয়ে পড়বে। মাঝখানে ১৩৫ বছরের পর্দা। সেটি উঠবে, সীমান্তের দুপাশেই তার তোড়জোর চলছে। গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য যোগাযোগের হাব হবে মহিষাশন জংশন। করোনার বিরতির পরে আসামে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে রেলরুট। আশা করা হচ্ছে ২০২১ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশ থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করবে মহিষাশন। সেদিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন আসামসহ সেভেন সিস্টার্সের হাজারো মানুষ। এই রেলপথে ইতিহাস অনেক পুরনো।
৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটারের রেলপথটি ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল ও আসাম রেলওয়ের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুরের মধ্যে চালু হয়েছিল। যা কিনা সিলেটের বড়লেখা উপজেলার লাতু সীমান্ত দিয়ে কুলাউড়া রেল জংশন হয়ে যাতায়াত করতো। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে কুলাউড়া-শাহবাজপুর চলাচলকারী একমাত্র ট্রেনটি স্থানীয় জনসাধারণের কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত ছিল। ২০০২ সালের ৭ জুলাই এই রুটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের ২৬ মে ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনস্থাপন প্রকল্প অনুমোদন করে । এর মধ্যে ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা বাংলাদেশ এবং ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দেবে ভারত। একই বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরকালে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তবে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল প্রকল্পের অধীনে এবং ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে পুনর্বার জেগে উঠছে মরচে পড়া ইতিহাস। কালের সাক্ষী এই রেলপথ। এটি বড়লেখা থানার শেষ প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করবে আসামের মহিষাশনে। এই রেলপথ নির্মাণে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে সঙ্গে চুক্তি হয় ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালিন্দী রেল কোম্পানির। ভারতের লাইন অফ ক্রেডিটের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে মোট ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার মেইন লাইন এবং ৭.৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইন সংস্কার হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২৪ মাসের মধ্যে এসব কাজ শেষের কথা ছিল। চুক্তির পর প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের মে মাসের শুরু হয়েছিল। যা শেষ হবার কথা ছিল গত মে মাসে। অবশ্য করোনাসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। এরপর গত অক্টোবরে নতুন করে ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী আগামী মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় সংবাদদাতারা বলছেন, ডিসেম্বরে ওই রুটে ট্রেনের হুইসেল বাজবে না। কারণ বেশ কয়েকটি ব্রিজের আংশিক কাজ বাকি। ইয়ার্ডের নির্মাণকাজও অসম্পূর্ণ। করোনায় দীর্ঘ ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য আসবে যাবে আসামে। আশেপাশের রাজ্যের জন্যও কলকাতা থেকে আসবে পণ্যবাহী ট্রেন। সবটাই সিলেটের মাটি স্পর্শ করেই।