বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে ‘আঁধার সরাতে আলোক প্রজ্জ্বলন’

একাত্তর ডেস্ক :: বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর একমাস হয়েছে বুধবার। এই নির্মম ও জঘন্য হত্যাকান্ডের একমাস পূর্তিতে আলোক প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে। ‘আঁধার সরাতে আলোক প্রজ্জ্বলন’ স্লোগানে ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ এই ব্যানারে বুধবার সন্ধ্যায় ফাঁড়ির সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।
এসময় সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, এই ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে মেরে ফেলা হয় আজ থেকে এক মাস আগে।
এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন অদ্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা স্বস্থির সংবাদ হলেও আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার। যা দ্রুত আইনে বাস্তবায়নের দাবি করছি।
বক্তারা বলেন, কেবল একজন এসআই আকবর বা বন্দরবাজার ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যই নয়, রায়হান হত্যাসহ নগরের পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে চলা বিভিন্ন অনিয়ম, অত্যাচার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের অনেক উর্ধতন কর্মকর্তারাও জড়িত। পুলিশকে কলঙ্কমুক্ত ও জনবান্ধব করতে হলে এই চক্রের মূল উৎপাটন করা আবশ্যক।
নেতৃবৃন্দ এই ‘সিনিয়র অফিসারদের’ অবিলম্বে চিহ্নিত করে রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করার দাবি জানান।
আলোক প্রজ্জ্বলনে উপস্থিত ছিলেন রায়হান আহমদের ছোট ভাই রাব্বি আহমদ তানভির। তিনি বলেন, আমার ভাইকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে আর কেউ যেনো এরকম বিনাবিচারে হত্যার শিকার না হয়। এ জন্য এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব শেষে পুলিশ ফাঁড়ির দেয়ালে আলোক প্রজ্জ্বলন করা হয়। ছোটভাই রাব্বি আহমদ তানভীর ছাড়াও এই কর্মসূচীতে রায়হানের পরিবারের পক্ষে অংশ নেন রায়হানের খালা ফাহমিদা ইসলাম, খালাতো ভাই পাভেল আহমদ ও খালাতো বোন আমেনা বেগম।
আলোচনা পর্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কাস পার্টির জেলার সভাপতি সিকন্দর আলী, আদিবাসী নেতা গৌরাঙ্গ পাত্র, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী অ্যাডভোকেট মহিতোষ দেব মলয়, সমাজকর্মী নিগাত সাদিয়া। আয়োজক সংগঠন দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র পক্ষে বক্তব্য রাখেন সংগঠক আব্দুল করিম কীম, আশরাফুল কবির, দেবাশীষ দেবু, রাজীব রাসেল, দেবব্রত চৌধুরী লিটন, সত্যজিত চক্রবর্তী, মাহবুব রাসেল, নিরঞ্জন সরকার অপু, শামসুল আমিন, মেঘদাদ মেঘ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই নির্যাতনে নিহত হন নগরীর আখালিয়া এলাকার রায়হান আহমদ। এ নিয়ে সিলেটসহ সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। বিচার দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গত দুদিন আগে মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে প্রধান অভিযুক্ত আসামী এসআই আকবরকে। বর্তমানে তিনি ৭ দিনের রিমান্ডে আছেন।