ডিউটি ফেলে রোগী দেখছেন সরকারি চিকিৎসক

সুনামগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিভিল সার্জন অফিসের সহায়তায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে শহরের ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হলো শহরের নতুন কোর্ট পয়েন্টের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও উকিল পাড়ার মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সময় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পদায়নকৃত একজন মেডিকেল অফিসারকে দেখা গেছে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিতে।
মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানোর পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিভিল সার্জন। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো শামস উদ্দিন বলেন, ‘সারাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে আমরা সুনামগঞ্জে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। আমরা সবাইকে অনেক আগেই বলেছি লাইসেন্স করার জন্য। কিন্তু তারা শুনেনি। তাই জরিমানা করা হচ্ছে। তবে আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা যে সময়ে একজন মেডিকেল অফিসারের হাসপাতালে রোগী দেখার কথা, সেই সময় তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি হাসপাতালে বসে রোগী দেখছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. বদিউল আলম ভূঞা। সরকারি দায়িত্ব পালন না করে কেন প্রাইভেট রোগী দেখছেন সিভিল সার্জনের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বদিউল আলম ভূঞা বলেন, ‘রাতে ডিউটি করেছি। তাই আজ হাসপাতালে যাইনি।’ এ সময় এই চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ত্যাগ করতে বলেন সিভিল সার্জন। তবে তাকে কোনো জরিমানা বা সাজা দেয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলম বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে। তাই দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে অসঙ্গতি দেখছি তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।’