জার্মানিতে ইমাম প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :: ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর ইমাম প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করছে জার্মানি। ইসলাম সম্মেলনে এমনটাই জানালেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে অভিনব পরিকল্পনা করেছে জার্মান সরকার। জার্মানভাষী ইমামরা যাতে জার্মানিতেই প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার থেকে জার্মানিতে শুরু হয়েছে ‘ইসলাম কনফারেন্স’। সেখানেই এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার।
সম্প্রতি প্যারিস, নিস এবং ভিয়েনায় ইসলামি চরমপন্থীরা বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। নিহত হয়েছেন এক শিক্ষক সহ সাধারণ মানুষ। তারপরেই ইউরোপ জুড়ে নানা বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন মুসলিম দেশ।
সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দিহান ব্যক্তিরা নিজেদের শহর ছেড়ে অন্যত্র যেতে পারবে না এবং প্রয়োজন হলে তাদের নিয়মিত পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে। এরকম মানুষদের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিষিদ্ধও করা যাবে। বলাবাহুল্য, আগে সাধারণত জরুরি অবস্থায় এমন আইন প্রয়োগ করতে পারতো ফরাসি সরকার, যার অর্থ হচ্ছে, একজনকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা।
ভার্চুয়াল ইসলামিক কনফারেন্সের প্রধান বক্তা ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেহোফার। তিনি বলেছেন, যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ইউরোপে এখন এত আলোচনা চলছে, তা রুখতে ইসলামিক গোষ্ঠীগুলিকেই আরো শক্তিশালী করতে হবে। তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে হবে। সে কারণেই জার্মান বলতে পারা ইমামদের জার্মানিতেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁরাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন এবং সবার কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেবেন।
সাধারণত, জার্মানির ইমামরা তুরস্কে গিয়ে ইমাম হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। তুরস্কেই ইসলামিক স্কুলে তাঁরা পাঠ নেন। কিন্তু জার্মানি চাইছে, জার্মানিতেই সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে।
শুধু ইমামদের প্রশিক্ষণই নয়, জার্মানির মসজিদগুলোকে আরো সাহায্য দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। মসজিদগুলোতে যাতে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা যায় সেই পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
সুত্র : ডয়েচ ভেলে