খেপে উঠলেন আফছর চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্ট :: নিজের নামে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করছেন তিনি। তবে যে ভূমিতে তিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সেটির মালিকানা তার নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তিনি হচ্ছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফছর আহমদ। নিজের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভূমিটি দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিয়াব উদ্দিন চৌধুরী নামের এক বয়োবৃদ্ধ। প্রভাবশালী ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হলেও কোনো সহযোগিতা পাননি এ বিষয়ে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনারকে (দক্ষিণ) নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর পূর্বে শাহপরাণ থানাধীন খিদিরপুর মৌজায় একখন্ড জমি কেনেন নগরীর মিরাবাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে সিয়াব উদ্দিন চৌধুরী। ২০১৭ সালে নগদ টাকার প্রয়োজনে জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তখন জমিটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন দেবপুর মুগিরপাড়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফছর আহমদসহ আরও তিন ব্যক্তি। ওই বছরের ২৫ এপ্রিল জমিটি কেনার জন্য সিয়াব উদ্দিন আহমদের সাথে বায়নামাপত্রে ক্রেতা হিসেবে স্বাক্ষর করেন আফছর আহমদ, লুৎফুর রহমান, মাহবুব আহমদ এবং মোস্তাক আহমদ। সেই বায়নামাপত্রে জমির মূল্য ৯৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে নগদ ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন চেয়ারম্যান আফছর ও তার সহযোগীরা। অবশিষ্ট ৭২ লাখ টাকা ২ মাসের মধ্যে পরিশোধের পর চেয়ারম্যান আফছর, লুৎফুর, মাহবুব ও মোস্তাকের নামে জমিটি সাফ কবালা রেজিস্ট্রারি করে দেয়া হবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বায়নামাপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হবে বলে বায়নামাপত্রে উল্লেখ করা হয়। বায়না করার ২ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর টালবাহানা শুরু করেন চেয়ারম্যান আফছর ও তার সহযোগিরা। অবশিষ্ট টাকা না দিতে শুরু করেন নানা ষড়যন্ত্র। এভাবে কেটে যায় তিন বছর। গত মঙ্গলবার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসর আহমদ পুরো টাকা পরিশোধ না করেই প্রভাবখাটিয়ে সিয়াব উদ্দিনের জায়গাতে জোরপূর্বক জবরদখল করে ঘর নির্মাণ এবং মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন।
খবর পেয়ে পরদিন বুধবার সিয়াব উদ্দিন তার জমিতে গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফছর আহমদের নির্দেশেই সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ চলছে। এরপর একাধিকবার আফছর আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সিয়াব উদ্দিন। কিন্তু চেয়ারম্যান আফছর তাকে পাত্তা দেননি। এরপর লুৎফুর, মাহবুব ও মোস্তাককের কাছে জায়গাতে ঘর নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না সব কিছু দেখাভাল করছেন চেয়ারম্যান আফছর।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চেয়ারম্যান আফছর আহমদ তার ইউনিয়নে নিজের নামের একটি মিনি স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা নেন। স্টেডিয়াম নির্মাণ করার জন্য বায়নাকৃত জায়গায় খুঁটি পুতেন। এমনকি স্টেডিয়ামের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকাও চেয়েছেন। অনেকেই ভয়ে তাকে টাকা দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্থ করেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফছর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিয়াব উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করার জন্য বায়না করেছি। জায়গার উপর আমি যা ইচ্ছে করব এতে তোমার সমস্যা কি। সাংবাদিক হয়েছেন কি হয়েছে। আঙ্গুল দিচ্ছেন কেন। এটা টিক নয়। আপনি সাংবাদিক হয়েছেন কি হয়েছে আমিও সাংবাদিক। দেখে নেব তোমাকে ও তোমার পত্রিকাকে? এসময় তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।