সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ বাইডেনের

বিশেষ প্রতিনিধি :: সবকিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির ২০ তারিখ শপথ নেবেন নতুন নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর বাইডেন। আর প্রথম দিন থেকেই তিনি মুখোমুখি হবেন নানা চ্যালেঞ্জের। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোভিড-১৯ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। বাইডেন নিজেও শনিবার রাতে দেয়া তার বিজয়ী বক্তব্যে এমনটাই আভাস দিয়েছেন। করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ঢেউয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় বিধ্বস্ত বলা যায়। এখন দিনে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ১ লাখ ২১ হাজারে পৌঁছেছে। আর এই সময়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৫ হাজার ৪শ ৭০ জন মৃত্যু বরণ করেছেন।
বাইডেন বলেছেন দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই আত্মঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তিনি বলেন, আমাদের হাতে এমন কোনো ম্যাজিক সুইচ নেই যে আমরা তা টিপে করোনা বন্ধ করে দেব। কিন্তু আমরা এই ভাইরাসকে কঠোরভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবো। এক্ষেত্রে আমাদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও গাইড লাইন অবশ্যই কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
করোনায় এ পর্যন্ত ২ লক্ষ ৪১ হাজারেরও বেশী মার্কিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই করোনার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থাও খুবই নাজুক। এখনও প্রায় ২০ লাখ আমেরিকান বেকার ভাতার উপর নির্ভরশীল। গত এপ্রিল থেকে এই ভাতা পেয়ে এলেও ইতিমধ্যে অনেক রাজ্যের ফান্ড শেষ হয়ে গেছে।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানের আইনি রশি টানাটানির ফলে বেকারদের জন্য ফেডারেল থেকে রাজ্যে কোনো ডলারের যোগান আসছে না। ফলে মিডল ক্লাস আমেরিকানদের দুঃখ দুর্দশা বেড়ে চলেছে। বাইডেনকে ক্ষমতায় বসে এ সকল পরিস্থিতিকেও সামাল দিতে হবে বিচক্ষণতার সাথে। দ্রæত কাজের বাজার তৈরির দিকে মনোযোগী হতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে বেকারত্বের সংখ্যা। এছাড়া তাকে সকলের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চত, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কার্যকর সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ, ইমিগ্রেশন রিফর্ম ইত্যাদি নানা গুরত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চার বছরের শাষণ আমলে বহির্বিশ্বে আমেরিকার যতটা সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে জর্জিয়া, আরিজোনা ও নর্থ ক্যারোলিনার নির্বাচনী ফলাফল এখনো ঘোষণা করার বাকি। নর্থ ক্যারোলিনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও জর্জিয়া ও আরিজোনায় বাইডেন অগ্রগামী রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলাফল মেনে নেয়ার প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে প্রেসিডেন্টের পার্টি রিপাবলিকান শিবিরও। সারা বিশ্বের চোখ এখন ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে আগামী দিনে কী হয় না হয় তা দেখার জন্য।