বাঁশতলা চৌধুরীপাড়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে পুণর্মিলনী

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশতলা চৌধুরীপাড়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পূণর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে র‌্যালি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। সাবেক শিক্ষক হুমায়ুন কবির বাবুলের সভাপতিত্বে চন্দনা আক্তার পলি ও ফয়সল আহমেদ রাজুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সমুজ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কামাল হোসেন, সাংবাদিক এমএ মোতালিব ভুঁইয়া, শহীদ স্মৃতি অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল মুজিবুর রহমান, সমাজসেবক জাকির ভুঁইয়া, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রুবেল হোসেন, এমএ সাদেক, আকলিমা আক্তার, মনির হোসেন, সমাজসেবক আব্দুর রহমান মোল্লা, জসিম রানা, ডা. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, আল আমিন, মনির হোসেন বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম, হেলাল আহমেদ সুমন, শামছুদ্দিন রাজু, আরিফ সিকদার, জয়নাল আবেদীন, শিল্পী আক্তার, আবুল কাশেম, সাইফুল ইসলাম, ফাহমিদা, আকলিজা, ফাহাদ, শরীফ ভুঁইয়াসহ সব প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলাল আহমেদ বলেন, আমরা শৈশব কৈশরের খোঁজে এখানে ছুটে এসেছি। স্বপ্নের দরবারে স্মৃতির আঙ্গিনায়। ৫ম শ্রেণী পাশ করে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে এই স্কুলে আমার যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ৩ বছর পরে নিজের বিদ্যালয়ের সব বন্ধুদের একসাথে পেয়ে আবেগে আপ্লুত। আরেক শিক্ষার্থী চন্দনা আক্তার পলি বলেন, সেই ৬ষ্ঠ থেকে এসএসসি পাশ করা পর্যন্ত সব সহপাঠিদের সাথে আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে বিদ্যালয়ের কঠোর অনুশাসনের মধ্যে পার করেছি। আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, এতে আমার বিদ্যালয়ের অবদান অনেক। আমার প্রদ্ধেয় শিক্ষকদেও প্রতি কৃতজ্ঞতা। খুনসুঁটিতেও কেউ কাউকে ছাড় দেননি। এ উপলক্ষে বন্ধু- বান্ধবীদের সৌজন্যে বনভোজনের আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের মধ্যে সাক্ষাত হওয়ায় এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাদের আবেগ, স্মৃতিচারণ, আড্ডা, ছুঁয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সবাই কিছুক্ষণের জন্য ছাত্রজীবনের মধুময় জীবনে ফিরে যান। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীরা মনমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানস্থলকে মাতিয়ে তোলে। তবে রহস্যজনক কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক, অফিস সহকারী উপস্থিত ছিলেন না। প্রাক্তন শিক্ষকদের উত্তরীয়, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের পরিবার নিয়ে দুপুরের খাওয়ার, দলগতভাবে ফটোসেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শেষ বিকেলে কফি আড্ডায় শেষ হয় ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুণর্মিলনী।