জবরদখলকৃত পানজুম উদ্ধারে প্রশাসনের ২ দফা অভিযান

কুলাউড়া প্রতিনিধি :: কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে জবরদখলকৃত একটি পানজুম উদ্ধারে সোমবার ২ দফা অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযান শেষে ফেরার পর পাল্টা জবরদখলের খবর পেয়ে রাত ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত পুনরায় অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন, র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গলের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, কুলাউড়া থানার এসআই আব্দুর রহিম জিবানসহ র‌্যাব ও পুলিশের প্রায় ত্রিশ সদস্যের একটি টিম।
জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কাটাবাড়ি পানজুমটি ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে টাট্রিউলি গ্রামের রফিক মিয়া (৪০), বশির মিয়া (৩৫), উস্তার আলী (৪৫), হারুন মিয়ার (৫০) নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পানপুঞ্জিতে প্রবেশ করে। ভয় দেখিয়ে তারা জুমের পাহারাদারদের তাড়িয়ে দেয়। জুমের মালিক জসপার আমলরং কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আবার রফিক মিয়া পানজুমের জায়গাটি নিজের দাবি করেন এবং খাসিয়ারা জোরপূর্বক জবরদখল করে পানচাষ করছে বলে পৃথক অভিযোগ দেন। প্রশাসন সোমবার পান জুমের দখলকৃত স্থানটি রফিক মিয়া ও তার সহযোগীদের কবল থেকে উদ্ধারে অভিযান চালান। অভিযানে পানজুম পাহারা দেয়ার দু’টি ছাউনী ও একটি অর্ধ পাকা টিন শেডের ঘর ভেঙ্গে পানজুম দখলমুক্ত করেন। জুমের ভেতরে একটি ঘরে থাকা দু’জন মহিলা শ্রমিক কুলাউড়ার গাজীপুরের অধিবাসী মৃত আইয়ুব আলীর স্ত্রী লতিফা বেগম (৪১) ও কর্মধার টাট্টিউলি এলাকার বাসিন্দা মৃত তছির আলীর স্ত্রী রোমেনা বেগমকে (৩৮) আটক করেন। পরে তাদের স্থানীয় মেম্বার সিলভেস্টার পাঠাংয়ের জিম্মায় দেন এবং দখলমুক্ত পানজুমটি জসপার আমলরং খাসিয়াকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। জসপার আমলরং জানান, জুমের মালিক তিনি। তার বৈধ কাগজপত্র আছে। প্রায় পাঁচ একরের জুমটিতে দেড় মাসে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তা জুমটি ফিরে পেলেও পুনরায় জবরদখলের আশঙ্কা করছেন তিনি। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, খাসিয়াদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা হয়। কিন্তুু মিয়া না আসায় এবং তার দলিল না দেখানোর কারণে তার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠাই। তাদের দেয়া তথ্য মতে, এই দলিলের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি এবং পানজুমের প্রকৃত মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেই।