আকবর ৭ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ৭ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে আকবরকে সিলেটের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মো. আবুল কাশেম ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময় সিলেট জেলা বারের কোন আইনজীবী আকবরের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হননি। তবে রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের বিচারক আকবরের বক্তব্য শুনতে চাইলে আকবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। রায়হান হত্যাকান্ডের সাথে তিনি জড়িত নন বলে আদালতকে জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করেন।
আকবরকে যে আদালতে তোলা হচ্ছে তা আগে থেকে জানাজানি হয়ে যাওয়ায় আকবরকে এক পলক দেখার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় ভিড় করেন অনেকেই। আদালত পাড়ায় মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবুল কাশেমের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক আওলাদ হোসেন বলেন, রায়হান হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এ ঘটনার সাথে কার কি ভূমিকা রয়েছে তা জানতে এসআই আকবরকে ৭দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আদালতে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালতের বিচারক ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সেলিম বলেন, রায়হান হত্যাকাণ্ড একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। শুনেছি মঙ্গলবার এসআই আকবর হোসেনের পক্ষে আইনজীবী সমিতির কোন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি। তবে এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাস্টঘর থেকে আটক করে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় এসএমপির একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। এর পর দিন ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেয়ার ২৬ দিন পর সোমবার আকবরকে সিলেট জেলা পুলিশের একটি দল কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটক হন আকবর।