জীবনযুদ্ধ


কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মহলুলসুনাম গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আব্দুর রহমান। বয়স ৯০ এর কোঠায়। মুখে সাদা দাড়ি, বয়সের ভারে চোখের ব্রু পর্যন্ত সাদা হয়ে গেছে। সংসার নামক যুদ্ধে তবুও কাঁধে ঝুলছে আইসক্রিমের বাক্স। পাঁচজনের সংসার, সাপ্তাাহিক ঋণের কিস্তি, নিচের চিকিৎসার খরচ জোগাতে বৃদ্ধ বয়সেও আইসক্রিমের বাস্ক কাঁদে নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে, কখনো স্কুলের সামনে বসতে হয়। ফেক্টরি থেকে আইসক্রিম বাকিতে কিনে সারাদিন ঘুরে বিক্রি করেন এবং ফেক্টরির মালিককে টাকা দিয়ে যা তাকে তা দিয়েই চাল-ডাল কিনে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন।
কথা প্রসঙ্গে আব্দুর রহমান জানান- বিগত ৫০ বছর যাবত আইসক্রিম বিক্রি করে জীবনযুদ্ধে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে আচার, মিষ্টি আমড়াও বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে টানাপোড়েনে কেটে যাচ্ছে জীবনসংসার। তবে আইসক্রিম ব্যবসায় আগের মতো লাভজনক নয়। বাজারে বড় বড় দোকানে দামি ও উন্নতমানের আইসক্রিম পাওয়া যায়, তাই মানুষ বাস্ক থেকে খোলা আইসক্রিম খেতে চায় না। এদিকে করোনাকালিন স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় বিক্রি নেই বললেই চলে। এছাড়াও পুঁজি কম থাকায় অন্য কোন ব্যবসায় যেতে পারছেন বৃদ্ধ আব্দুর রহমান।
তিনি জানান- করোনার আগে অর্থাৎ স্কুলগুলো যখন খোলা ছিল তখন স্কুলের সামনে, হাটে বাজারে দৈনিক ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হতো। খরচ বাদে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হতো। স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় এখন ৩০০ টাকার বেশি বিক্রি হয় না। তাই এখন খরচ বাদে যা যেটাকা তাকে তা দিয়ে কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তি এবং অসুখ বিসুখের চিকিৎসা খরচ। করোনাকালিন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রীও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।