চা বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ কাঁচা চা পাতা চুরি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর এর ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ চুরি হয়েছে। ফাঁড়ি বাঘিছড়া ও দেওছড়া চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন থেকে কাঁচা চা পাতাও চুরি হচ্ছে। এতে নারী শ্রমিকদের পাতি উত্তোলনে নিরিখ পুরো করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগান ম্যানেজমেন্টকে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিয়ত রাতের আধারে গাছ ও চা পাতা চুরির ফলে বৃক্ষ শুন্য হচ্ছে চায়ের টিলাভূমি। ফলে চায়ের উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনছে।
চা শ্রমিকদের অভিযোগে জানা যায়, গাছ চোর ও কাঁচা চা পাতা চোর সিÐিকেট চক্র রাতের আঁধারে হরদম গাছ ও কাঁচা চা পাতা চুরি করে। চা বাগানের কতিপয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পাহারাদারদের সাথে যোগসাজষ করে নিয়মিত এসব অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। বাগানের মূল্যবান ও পুরাতন ছায়াবৃক্ষ হিসাবে আকাশি ও রেন্ট্রি গাছ ভ‚মিকা পালন করছে। এই গাছগুলো কেটে খন্ডাংশ করে ঠেলা গাড়ি যোগে স’মিলসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। অপরদিকে কাচা চা পাতা চোর চক্র রাতে সেকশনে প্রবেশ করে কাঁচি দিয়ে চা গাছের কচি পাতা কেটে বস্তা ভর্তি করে নেয়। প্রতি রাতেই দেওছড়া, কানিহাটি, ডবলছড়া, বাঘিছড়া, শমশেরনগর, আলীনগরসহ বিভিন্ন চা বাগানের সেকশন থেকে কাঁচা চা পাতা পাচার করে। বস্তাভর্তি করে বাগানের বাহিরে নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে মধ্যরাত কিংবা ভোর রাতে ট্রাক ও পিকআপযোগে পাচার করা হয়। চোরাই কাঁচা চা পাতা ভর্তি গাড়ি কুলাউড়া ও রাজনগর সড়ক দিয়ে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিনিয়ত চা বাগানের গাছ ও কাঁচা চা পাতা চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি শমশেরনগর এর ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের ২ নম্বর সেকশন থেকে তিনটি মূল্যবান আকাশি গাছ চুরি হয়েছে। একই সময়ে বাঘিছড়া থেকে ব্যাপকহারে কাঁচা চা পাতাও চুরি হয়েছে। এতে নারী শ্রমিকরা কাজে গিয়ে সেকশনের চা গাছের পাতি চোরি হয়ে যাওয়ায় ক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা কিছু সময়ে কর্মবিরতি পালন করে ও বাগান ম্যানেজমেন্টকে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন বা টিলা থেকে গাছ কেটে পাচার হয়ে যাওয়ায় বৃক্ষ শুন্য হচ্ছে সেকশন সমুহ। এর প্রভাব পড়ছে চায়ের উৎপাদনে।
বাঘিছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি লছমন রবিদাস, কানিহাটি চা বাগানের সভাপতি প্রতাপ রিকিয়াশন বলেন, বাগান থেকে গাছগাছালি ও কাঁচা চা পাতা চুরি হচ্ছে। এরফলে সেকশনের চা গাছ থেকে নারী শ্রমিকরা পাতি উত্তোলন করতে পারছে না। তাদের নিরিখ পুরো করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেন, গাছ চুরি হয়ে যাওয়ায় টিলাগুলো বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়ছে। এজন্য চা গায়ে ছায়াও থাকবে না। ফলে বাগানের বড় ধরণের ক্ষতি হচ্ছে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা ম্যানেজমেন্টকেও বলেছি।
এ ব্যাপারে শমশেরনগর চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, চা বাগানের গাছ ও কাঁচা চা পাতা চুরির বিষয়ে শ্রমিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।