৩০ কেজির চালের বস্তায় ২৮ কেজি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে দেয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তায় ডিলারদেরকে ২৮-২৯ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে বলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্যগুদামে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসানের আকস্মিক পরিদর্শনকালে ওজনে কম দেয়ার বিষয়টির সত্যতা পান এবং তিনি এ ব্যাপারে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষকে আরো সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ১শ’ কার্ডধারীর মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে প্রত্যেক কার্ডধারীর নিকট ৩০ কেজি করে চাল বিক্রির লক্ষে ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আর প্রতি কার্ডধারীর বিপরীতে প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে চালের ওজন ৩০ কেজি এবং খালী বস্তার ওজন ৩০০ গ্রাম হিসেবে চালসহ প্রতি বস্তার ওজন ৩০ কেজি ৩০০ গ্রাম সঠিক ওজন করে ডিলারদেরকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ডিলারদের বরাদ্দকৃত চালের বস্তা কোনো রকম ওজন না করেই তিনি সংখ্যায় গুণে প্রতি বস্তায় সঠিক ওজন রয়েছে বলে বুঝিয়ে দেন। আর ডিলাররাও তার কথামতো ওইসব চাল এলাকায় নিয়ে কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করতে গিয়ে প্রায় বস্তাতেই ২-৩ কেজি করে চাল কম দেয়া হচ্ছে। কার্ডধারীদের কাছে এতে তাদের বিড়ম্বনার শিকারও হতে হচ্ছে। আর এ ধরনের অভিযোগ উঠায় সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদ্যগুদামে উপস্থিত হয়ে ওইসব চালের বস্তার সঠিক ওজন করে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হন।
এব্যাপারে একাধিক ডিলারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলণের সময় গুদাম কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ওজন ছাড়াই ৩০ কেজির ওজনের চালের বস্তা বুঝিয়ে দেন। তবে প্রায় বস্তাতেই ৩০ কেজির স্থলে ২৭-২৯ কেজি চাল থাকে। আর চালের বস্তা এনে কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করতে গিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন রায় বলেন, খাদ্যবান্ধবের চালের বস্তার মুখ মেশিনে শেলাই করা থাকে। বস্তা আমরা যেভাবে বুঝে রাখি, ঠিক সেই ভাবেই আমরাও তা ডিলারদেরকে বুঝিয়ে দেই। তাই সেসব বস্তা ওজনের প্রয়োজন হয়না। তবে হুক লাগার কারণে বা অধিক টানা হেঁছড়ার কারণেও কিছু চালের বস্তায় ওজনে কম হতেই পারে।
ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিএম মুশফিকুর রহমান ওজনে কম থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইউএনওর উপস্থিতিতে খাদ্যগুদাম থেকে এক ডিলারের বরাদ্দকৃত চালের বস্তা সরবরাহের সময় ওজনের পর কিছু বস্তায় কম থাকার একটি তথ্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমার কাছে পাঠিয়েছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দকৃত চালের বস্তায় ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আগামী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।