২ ভূয়া ডাক্তারের জেল-জরিমানা প্রতিষ্ঠান সিলগালা

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ভূয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য চরমে। বাহারি ডিগ্রিসংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তারা নিরীহ রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন। পাশাপাশি বাড়ছে ভুল চিকিৎসার ঘটনা। রোববার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ ভূয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তারকে জরিমানা ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে।
আটক ভূয়া ডাক্তররা হলেন, কাজল দেবনাথ ও অলক চন্দ্র দত্ত। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাদেরকে জেল ও জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন। এময় কাজল দেবনাথকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদÐ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। অপর ভ‚য়া ডাক্তার অলক চন্দ্র দত্তকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। তাদের প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ডাক্তার লেখে প্রতারণা করছে একটি চক্র। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগীতায় অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে থানার একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন। অভিযানে নবীগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে দেখা যায় ‘দেবনাথ মেডিকেল সার্ভিস’। এখানে শিশু রোগসহ বিভিন্ন রোগী দেখেন ডা. কাজল দেবনাথ। ভিতরে গিয়ে তার কাগজপত্র যাচাই বাছাইকালে বাংলাদেশের কোন সনদপত্র দেখাতে পারেননি। তার কাছে ভারতীয় বিভিন্ন কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া বেবি ফুডসহ ঔষধ বিক্রির কোন লাইসেন্স না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন ফার্মেসিতে ঔষধ বিক্রি করছিলেন। এমন অপরাধে কাজল দেবনাথকে মেডিসিন ও ডেন্টাল আইনে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। অপর দিকে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রসূলগঞ্জ নতুন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পার্বতী নামের ফার্মেসী চিকিৎসার নামে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন অলক চন্দ্র দত্ত। তিনিও নামের আগে ডা. লেখে বড় করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। তার কাগজপত্র যাচাইকালে স্বীকার করেন, তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। তার কাছে কোন সার্টিফিকেট না থাকায় তাকেও মেডিসিন ও ডেন্টাল আইনে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে তাদেরকে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ভুয়া ডাক্তারদের কারণে অনেক রোগী প্রতরণার শিকার হচ্ছেন, অপচিকিৎসায় মৃত্যুও হচ্ছে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে সবাই উপকৃত হবেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. চম্পক কিশোর সাহা সুমন বলেন, শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না হয়েও কাজল দেবনাথ রাগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ঔষধ লিখে দিচ্ছেন। ফলে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন ভ্রাম্যমান আদালতের সত্যতা নিশ্চিতকরে বলেন, এ অভিযান কেবল শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব গ্রামে-গঞ্জে অভিযান চলবে। অভিযানে সহযোগীতা করেন, নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. চম্পক কিশোর সাহা সুমন, নবীগঞ্জ থানার এসআই সম্রাট আহমেদ।