লাউয়াছড়া বনের পাশে আশ্রয়ন প্রকল্প বাতিলের দাবি

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: ‘লাউয়াছড়া বনের জন্য ক্ষতিকর আশ্রয়ন প্রকল্প বাতিল করো’, ‘ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে শতবছরের কৃষিজমি থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বাতিল করো’ এসব স্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক জলি পালের সভাপতিত্বে ও প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, জাবেদ ভুইয়া, কাজী সামছুল হক ও সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
মানববন্ধন থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও সরকারকে উদ্দেশ্য করে বাসদ নেতা আ্যডভোকেট আবুল হাসান বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার, তবে আপনাদের জায়গা নির্বাচন করা ভ‚ল। আপনারা শ্রীমঙ্গলে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আদিবাসী মানুষ ও প্রকৃতিকে বিপন্ন করতে পারেন না, ডলুবাড়িতে ১২০টি ত্রিপুরা আদিবাসী পরিবার রয়েছে, ৩৮২ একর জমির ব্যাপারে ১৯৭৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রায় রয়েছে এবং সরকারকারের প্রতি আদালতের নির্দেশনা রয়েছে ত্রিপুরাদের জমির মালিকানা যেনো দেওয়া হয় কিন্তু আজও আদালতের রায় বাস্তবায়ন হয়নি।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রশাসনিক আমলা যারাই এই সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত তারা নিশ্চয়ই আমাদের যৌক্তিক দাবি পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন এবং অন্যত্র জায়গা নির্ধারণ করবেন। নৌকা মার্কার সরকার ক্ষমতায়, আপনারাই নৌকা মার্কার ভোটারদের আপনারা উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন, ওরা তো, বিএনপি, জামাত, বাসদ, কমিউনিস্টকে ভোটে দেয় না, তাহলে আপনারা সেটা করার চেষ্টা করছেন কার ইশারায়?
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী নেতা জনক দেববর্মা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এখানে বসবাস করছি। আমরাও চাই ভূমিহীন মানুষরা জমি ও গৃহ পাক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত এবং পরিবেশ, প্রকৃতি এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা টিকিয়ে রেখে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, সরকারের পদক্ষেপ একপ্রকার স্ববিরোধী হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘর দেওয়ার পদক্ষেপ অন্যদিকে আমাদের কৃষিজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা। আমাদের জীবন ও জীবিকা যাতে হুমকীর সম্মূখীন না হয় সেটি লক্ষ্য রেখে, কতিপয় প্রভাবশালীদের নিকট থেকে সরকারী খাস জমি উদ্ধার করার দাবি জানান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নেওয়ার উদ্দিন বলেন, আন্দোলনকারীদের একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। এখন আমরা সেটি বিশদভাবে পর্যালোচনা ও আলাপ আলোচনা করে দেখব। খাস জমি উদ্ধারের ব্যাপারে তিনি বলেন, উপজেলার সমস্ত সরকারী খাস জমি এবং কি অবস্থায় রয়েছে সেরকম এটা তালিকা আমরা করে ফেলেছি। বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য যোগ্য জমির শ্রেণী আমরা খুজে খুজে সমস্ত ভূমিহীনদের দেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করছি। অবৈধ দখলদারদের কাছে কি পরিমান সরকারি জায়গা অপদখলে আছে সেটিরও তালিকা করা হচ্ছে এবং সেগুলো উদ্ধারকাজ চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করা হবে।