সারাদেশের সাথে সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: আখাউড়া-সিলেট রেলপথের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও রেলস্টেশনের কাছে আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ৪টি বগি, একটি গার্ড ব্যারাক ও একটি ব্যাংকিং ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। শনিবার রাত পৌণে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখন ট্রেন যোগাযোগ চালু হয়নি। সাতগাঁও স্টেশন মাস্টার আব্দুর রহিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাত্তরের কথা’কে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লাইন মেরামতের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় একটি বগি উদ্ধার করে। অবশিষ্ট বগিগুলো আজ রোববার সকালে উদ্ধার করা হবে। তিনি জানান, আপাতত: লাইন চলাচল পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে সারাদেশের সঙ্গে রেলযোগাযোগ পুনঃস্থাপনের আশা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন সাতগাঁও রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করে ট্রেনটি সিলেট যাওয়ার পথে এসব বগি লাইনচ্যুত হয়। বগি লাইনচ্যুতি হওয়ায় ওয়াগন থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাবে ওই তেল সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরে জিআরপি পুলিশ ও শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মানুষদের ঠাসা ভিড় সামাল দিতে দুরুহ হয়ে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ওয়াগন থেকে গড়িয়ে পড়া মূল্যবান কেরোসিন, ডিজেল তেল মানুষজন যে যার মতো করে লুট করে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে বিকেল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।
সাতগাঁও রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো.আব্দুর রহিম জানান, চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী ৯৫১ নং আপ ট্রেন আখাউড়া থেকে ছেড়ে সাতগাঁও রেল ষ্টেশনে সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাকালে স্টেশনের কিছুটা দূরে ৪টি তেলবাহী বগি, ১টি গার্ড ব্যারাক ও একটি ব্যাংকিং ইঞ্জিন লাইচ্যুতি ঘটে। এর পর থেকে খবরপেয়ে ছুটে এসে স্থানীয় এলাকার লোকজন যে ভাবে পেরেছে, সেভাবে তেল লুট করে নিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কথা জানিয়েছি। জিআরপি পুলিশ দুপুর সাড়ে ১২টারদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তিনি আরো জানান, ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেন কুলাউড়ায় ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাাহাড়িকা এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এদিকে, তেলবাহী বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিটিও মাইনুল ইসলাম।
ওয়াগন থেকে জ্বালানি তেল হরিলুট
এদিকে তেলবাহী ট্রেনের চারটি বগির ওয়াগন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেতে এলাকার কয়েকহাজার নারী, পুরুষ, যুবক, শিশু ভিড় করেন। দিনভর কেউ বালতি, পাতিল, বোতলে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে নিয়ে যান তাদের গন্তব্যে।
দুর্ঘটনার পর সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কারও হাতে বালতি, কারও হাতে পাতিল, কারও হাতে জগ, আবার কারও হাতে প্লাস্টিকের বড় গামলা। সবাই এসব পাত্রে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। কার আগে কে তেল নিয়ে যাবে, তা নিয়ে যেন চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় লোকজন লাইনচ্যুত হওয়া ওয়াগন থেকে গড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেল নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তারা বোতল, জগ, পাতিল ও বালতি নিয়ে তেল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। অনেক দেরীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বারবার চেষ্টা করেও তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। এর পর অগ্নিকান্ডের ঘটনা এড়াতে দমকলবাহী দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়।
রেলওয়ে সিলেট অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী ইঞ্জিনিয়ার দুলাল চন্দ্র দাশ বলেন, ইঞ্জিনসহ ৬টি বগী লাইনচ্যুত হয়। কুলাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন ও আখাউড়া থেকে আরেক উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। লাইন মেরামত ও বগি উদ্ধার কাজ রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে তিনি জানান।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড সিলেট অঞ্চলের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই তেলগুলো মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের। এখানে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল রয়েছে।