গোচরণ ও খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাতিলের দাবি

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গোচরণ ও খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার সকালে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক, জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, আব্দুল হাই, গোলাম মোস্তফা, শরীফ উল্ল্যাহ, তমিজ উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনফর আলী, সমাজসেবক আসকর আলী, কাবিল আহমেদ, মোশাইদ আলী, আইয়ুব আলী, আব্দুল মতিন, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল কাদির, নুরুল হক, হুসেন আলী, মাহমুদ আলী, জমিরুল হক, আব্দুল করিম, মরম আলী, আক্কু মিয়া, নুর মিয়া, সফর আলী, হাবিবুর রহমান, নুরুল হক তালুকদার, হানিফ আলী, মনির মিয়া, ফরিদ মিয়া, মমিনুল হক, সফিক মিয়া, মোস্তফা কামাল, নুরুজ্জামান, ফাইজুদ্দিন, ওমর গনি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লক্ষীপুর ইউনিয়নের একমাত্র গোচারণ ভূমি এটা। এই অঞ্চলের খেলোয়াড়দের খেলার মাঠও। এখানে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ পালন করে এলাকার অসহায় মানুষ সাবলম্বী হচ্ছেন। কিন্তু ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানাই এই গোচরে যেনো কোন উন্নয়ন প্রকল্প না নেয়া না হয়। এখানে প্রকল্প নেয়া হলে ইউনিয়নের ২০ টিরও অধিক গ্রামের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি এই এলাকার শিশুদের খেলাধুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এখানে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প নেয়া হলে জেলা পর্যায়ে গিয়ে আন্দোলন করা হবে।
জানা গেছে, লক্ষীপুর মৌজার জে.এল নং-৯৭, খতিয়ান -০১, দাগ নং-১৩১, ১৩৪, ১৩৬, ১৩৮ ইহাতে মাঠে ভূমির পরিমানা ৭১.৭৬ একর। ১৯০ ভূমির পার্শ্ববর্তী গ্রাম বক্তারপুর, নােয়াপাড়া, লক্ষীপুর, জিবারগাও, রসবাই, খরা, মারপুশি, সুলতানপুর, কান্দাগাও, জাগাও, বহরগাও ও চকিরঘাট গ্রামের লোকজন তফসিল বর্ণিত ভূমিতে গরু ছাগল, মেষ ও মহিষ ছড়য়ে আসছেন। এই গোচারণ ভূমি থাকায় লোকজনের গবাদি পশু লালন পালন করেন। কিন্তু ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে উষ্ণতা বৃদ্ধি জনিত প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকার। ইতিপূর্বে নি¤œ তফসিল বর্ণিত গোচর ভূমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্তের উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুর রহিম, আব্দুল খালেক বাদী হয়ে সিলেট সাব-জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (নং-২০৯/১৯৭৪) দায়ের করেন। যাহা বিগত ১৯৮১ সালে ২৯ জুলাই আদালত কর্তৃক বাদী পক্ষের গোচারণ ভূমি হিসাবে ঘোষণা করা হয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ হয়। জনস্বার্থে তফসিল বর্ণিত ভূমিতে সরকারী যে কোন উন্নয়ন কাজ না করার আহবান জানান এলাকাবাসী।