করোনাশঙ্কা, যুক্তরাজ্যের ১৯৩ প্রবাসী সিলেটে


স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটে এবার করোনা নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই শঙ্কার নেপথ্যে রয়েছেন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিজি ২০২ ফ্লাইটে করে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ১৯৩ জন প্রবাসী। সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের তেমন কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিমানটি ওসমানী বিমানবন্দরে নামার পর পরই শুরু হয় নাটকিয়তা। নানা শর্ত আর নির্দেশনার জালে আটকে রাখা হয় বিদেশি যাত্রীদের। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার জন্য উদগ্রিব অনেক যাত্রী টাকার বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে বেরিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট যাত্রীদের নিয়ে সিলেট ওসমানী বিমাবন্দরে পৌঁছে। তবে কতজন যাত্রী আসেন আর যাত্রীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। পরামর্শ দেন বিমান বাংলাদেশের সিলেট স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশের সিলেট স্টেশনের ব্যবস্থাপক এটিএম সামসুজ্জামান জানান, যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে আসা বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীদের বেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুসারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কী সিদ্ধান্ত হয়েছে আর কতজন যাত্রী এসেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করেছেন সিলেটের সিভিল সার্জনের একটি টিম। বিস্তারিত জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ডাউনিং স্ট্রিটে গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি চার সপ্তাহের (এক মাস) জন্য এই লকডাউনের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) থেকে এ লকডাউন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের ক্রিসমাস ‘বেশ আলাদা’ হতে পারে। কিন্তু তিনি প্রত্যাশা করেন, এই সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া মানে ভবিষ্যতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে হতে পারা। লকডাউনে রেস্তোঁরা, জিম ও অপ্রয়োজনীয় দোকান-পাট বৃহস্পতিবার থেকে চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে প্রথম দফায় লকডাউনের মতো এবার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না রেখে চাইলে খোলা রাখা যেতে পারে বলে জানান তিনি। আগামী ২ ডিসেম্বরের পর এসব কড়াকড়ি শিথিল করা হতে পারে বলেও জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মÐল বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে। এখন তারা করণীয় নির্ধারণ করবেন। তবে সিলেট র‌্যাব-৯ এর এএসপি (গণমাধ্যম) একেএম কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে লন্ডনের কোনও যাত্রী দেওয়া হয়নি। আর এরকম কোনও তথ্যও তার জানা নেই বলে জানান তিনি। একই ধরণের তথ্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানন্দর থানার ওসি শাহাদৎ হোসেন। তিনি বলেন, লন্ডন থেকে আসা কোনও যাত্রী পুলিশের কাছে দেওয়া হয়নি। আর এরকম কোনও তথ্যও জানা নেই বলে জানান তিনি।