এবার স্ত্রীর মামলায় মিছবাহ

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও দি ম্যান এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমদ মিছবাহ’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামল দায়ের করেছেন তার স্ত্রী রেহানা হাসান নাহার (৩৮)। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার রাধাকোনা গ্রামের মৃত রিহান উদ্দিনের মেয়ে। বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় (নম্বর-১১৩৮/২০২০) আসামি করা হয়েছে মিছবাহ’র আত্মীয়স্বজন ও তার অফিস স্টাফদেরও।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০০৬ সালে রেহানা হাসান নাহারকে বিয়ের অভিনয়ে সংসার পাতেন ফারুক আহমদ মিছবাহ। ওই বছর ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মিছবাহ-রেহানা দম্পতির একমাত্র সন্তান জিসান মাহি সানজিদ। পরবর্তীতে আবার রেহানা সন্তানসম্ভবা হলে গর্ভপাতের মাধ্যমে সন্তান নষ্ট করেন মিছবাহ। ২/৩ বছর আগে তাদের দাম্পত্যজীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মিছবাহ। এর প্রেক্ষিতে বালাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে একটি মামলা (২১/২০২০) দায়ের করেন রেহানা। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে রেহানাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকেন মিছবাহ। এরই মধ্যে ফারুক আহমদ মিছবাহর ছোটভাইয়ের স্ত্রীর রাহেনা বেগমের ব্যাংক চেক দিয়ে মিছবাহর ছোটবোন হাজেরা বেগম বাদী হয়ে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রেহানার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা (১২৩/২০২০) দায়ের করেন। কিন্তু রেহানা জানান, তার কোনো ব্যাংক একাউন্টই নেই।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, চেক জালিয়াতির মামলার বিষয়টি জানতে পেরে রেহানা আদালত থেকে মামলার নথিপত্রের কপি নিয়ে বাসায় ফেরার পথে মিছবাহসহ আরো কয়েকজন রেহানার সাথে থাকা তার ছেলে জিসান মাহি সানজিদকে অপহরণ করতে চাইলে তাতে বাধা প্রদান করেন রেহানা। তখন মিছবাহর সাথে থাকা লোকজন রেহানার উপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন রেহানা। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরবর্তীতে সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন রেহানা হাসান নাহার। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ফারুক আহমদ মিছবাহর বোন হাজেরা খানম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাহেনা বেগম, ছোট ভাই জালাল আহমদ, মিছবাহর অফিস স্টাফ রাহুল সরকার, এস.এম ইকবাল হোসেন পীর ও সুরঞ্জন দাস গুপ্ত। নাহারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট সোলেমান আহমদ চৌধুরী। আদালত থেকে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া।