‘সরে’ দাঁড়াতে চান আরিফ

স্টাফ রিপোর্ট :: নগর ভবন ছেড়ে দেওয়ার ‘হুমকি’ দিয়েছেন মেয়র আরিফ। বলেছেন, ‘আমার উচিৎ হবে এখান থেকে সরে দাঁড়ানো’। ক্ষোভ, হতাশা এবং অভিমান থেকেই সিটি কর্পোরেশন মেয়রের এমন হুমকি। নগরীতে হকার দৌরাত্ন্য অসহনীয় হয়ে উঠা এবং সহযোগিতাপ্রাপ্তিতে ‘দেয়াল’ তুলে দেওয়ার প্রেক্ষিতে আরিফুল হক চৌধুরী এই হুমকি দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট চেম্বার ভবনে মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, আমি তো জনগণের আমানত ও আপনাদের সেবার কমিটমেন্ট নিয়ে এসেছি। যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে যদি বলে দেন যে না, এটা পারব না সেক্ষেত্রে আমার উচিৎ হবে এখান থেকে সরে দাঁড়ানো। এখানে থাকতেই হবে, এই ধরণের ইচ্ছাও আমার নেই। আমরা আমাদের শহরকে যদি সুন্দর পরিচ্ছন্ন না করতে পারি তাহলে ক্ষতি হবে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এটিএম শোয়েবের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি সংগঠনের নেতা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও আমাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছিলেন। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এবং তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের মহানগরের সেক্রেটারি, জেলা সেক্রেটারি, প্রেসিডেন্ট উনারাও আমাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই শহরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা অন্ততপক্ষে হকারমুক্ত দেখতে চাই। সেই অঙ্গীকারে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আমি দিনভর চেষ্টা করে যাচ্ছি।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, রাত্রে ১২টা ১টা পর্যন্ত আমি কাজ করার চেষ্টা করে হকারদেরকে রাস্তা থেকে উঠাই। তারাও আমার কথা শুনছিল। আমি তাদেরকে একটা সিস্টেমে নিয়ে আসছিলাম। আমি তাদেরকে বলছিলাম সকাল দিক যদি তারা আমাদের ছেড়ে দেয় তাহলে বিকেল দিক বা রাত্রে ৮টার পরে ব্যবসা করতে পারবে। আমি তাদের অন্য সড়কে বসার বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে দেখলাম গত কয়েকদিন যাবৎ দু চারটি হকার অর্গানাইজড হয়েছে। তারা মিছিল করেছে। পুলিশ সদস্যরা তাদের মিছিলের অগ্রভাগে প্রোটেকশন দিচ্ছিলো।
মেয়র বলেন, আমি কোতোয়ালি থানার ওসিকে বললাম, কাজের সময় পুলিশ পাওয়া যায়না, ট্রাফিক পয়েন্টে জ্যাম থাকে। অথচ গুটিকয়েক হকারের মিছিলে প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ। জবাবে ওসি বলেন, না এমনটা হতে পারে না। আমি বললাম ভিডিওচিত্রটা পাঠাই, দেখেন। তারপর উনি বললেন, আসলে আমরা প্রেটেকশন দিয়েছি কারণ ওরা যদি উশৃঙ্খল হয়ে ভাংচুর করে এজন্য। আজকে (মঙ্গলবার) তারা (হকাররা) ১ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে কালেক্টরেট মসজিদ থেকে শুরু করে হাতে হাত ধরে মানববন্ধন করেছে। আরিফুল হক ক্ষোভের সাথেই বলেন, একজন মেয়রের পক্ষে প্রতিদিন চৌকিদারী করা সম্ভব না।