মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচন : মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ

হামিদুর রহমান, মাধবপুর

সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং-গ্রæপিং শুরু করেছেন। নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা না হলেও নিজেকে প্রার্থী হিসাবে জানান দিতে শারদীয় দুর্গপূজায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পূজা-মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। অনেকেই শারদীয় শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার, পোষ্টার সাঁটিয়েছেন। মাধবপুরে পৌর নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে এখন। প্রধান দু’রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে চা-স্টলসহ সর্বত্র আলোচনা চলছে।
মনোনয়ন পেতে দলের নেতা থেকে শুরু করে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন অনেকে। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালে মাধবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে অদ্যাবধি মেয়র পদটি আওয়ামী লীগের দখলেই। গত নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা হিরেন্দ্র লাল সাহা বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিককে পরাজিত করে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। হিরেন্দ্র লাল এবার নির্বাচন করবেন না, এই খবর প্রচার হওয়ার পর অনেকেই নড়েচড়ে বসেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মুসলিম, বর্তমান মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার ছোট ভাই পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পংকজ কুমার সাহা, মাধবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসান আকাশ, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বাবু বেনু রঞ্জন রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা আশরাফুল আলম টিটু, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত, মাধবপুর উপজেলা যুবলীগের জনশক্তি ও কর্ম সংস্থান সম্পাদক শাহ নেওয়াজ শানু, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শান্ত।
তবে মাধবপুর আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল দীর্ঘদিনের। পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এ কোন্দল আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন হাবিবুর রহমান মানিক। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপর দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলাউদ্দিন আল রনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তিনি তার পক্ষেই নির্বাচন করবেন। আগের দুটি নির্বাচনে হামিদুর রহমান হামদু দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। মাধবপুর বিএনপির মধ্যে প্রকাশ্যে কোন কোন্দল নেই। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মো. ফয়সলের সিদ্ধান্তই এখানে চুড়ান্ত। জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীকে এখনও প্রচার প্রচারণায় লক্ষ্য করা যায়নি। মাধবপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ১২ হাজার ৯শ’ ৮৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭শ’ ৬ জন এবং মহিলা ভোটার ৬ হাজার ২শ’ ৮১ জন।