এএসআই আশেক এলাহী কারাগারে

স্টাফ রিপোর্ট

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় পাঁচদিনের রিমান্ডে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পিবিআই। হাসাপতালে সুস্থ হওয়ায় আশেক এলাহিকে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে পিবিআই। এসময় আশেক এলাহি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরআগে সোমবার রিমান্ডে থাকা অবস্থায় এএসআই আশেক এলাহি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাঁচদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদকালে এএসআই আশেকে এলাহী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার বুকে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে। মঙ্গলবার তার অবস্থার উন্নতি হলে তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায়হান হত্যা মামলার ঘটনায় বরখাস্ত চার ও প্রত্যাহার হওয়া তিন পুলিশ সদস্যের একজন ছিলেন আশেক এলাহী। তিনিই রায়হানকে ধরে ফাঁড়িতে এনেছিলেন।

জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর পুলিশ লাইন্স থেকে এএসআই আশেক এলাহিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন ২৯ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। কিন্তু রিমান্ডে নেওয়ার একদিন পর ৩১ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের পৈশাচিক নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।