আদালতে পিতার অভিযোগ রিনাকে মারধর করা হতো

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনা (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দাখিল করলে আদালতের বিচারক অভিযোগটি ৩ দিনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার ওসিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য আদেশ দেন। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমান এই আদেশ দেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পাশাপাশি কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার শরীরের স্পর্শকাতর স্থান হাত দিতেন চিকিৎসক দম্পতির ছেলে তাহসান। নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে উপস্থাপন করে আদালতে মামলা দায়ের করেন কিশোরীর পিতা আব্দুল মালিক। তিনি কোম্পানীগঞ্জের বাতুমারা নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। মামলায় ৬জনকে আসামী করা হয়েছে।
আসামীরা হচ্ছেন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, তার স্ত্রী জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুন, ছেলে তাহসান, মেয়ে তাসকিয়া বেগম ও গোয়াইনঘাটের আঙ্গারজুর লামাপাড়া গ্রামের হাসনা বেগম। মামলায় ১১জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। আদালতে দাখিলকৃত ফিরিস্তিতে রিনার মৃত্যুর ২টি ছবি ও গত রোববার (১ নভেম্বর) একাত্তরের কথায় প্রকাশিত ‘সিলেটে চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মীর মুত্যু’ প্রতিবেদনটি (পেপার কাটিং) দাখিল করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহসীন আহমদ। তিনি বলেন, কিশোরীর পিতা আব্দুল খালিক তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেন। এসময় আদালতের বিচারক তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি আব্দুল খালিকের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। সেই সাথে অভিযোগের সাথে বাদীর দাখিলকৃত বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা ও জবানবন্দিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আদালত ৩দিনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজহার হিসেবে মামলা নথিভুক্ত করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। আদালতের বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬ (৩) ধারায় এই আদেশ দেন।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, পরিবার অভাবের সংসার হওয়ায় বাসায় টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি তাকে পড়ালেখা করানোর শর্ত দিয়ে ডা. ওয়েছ ও ডা. জামিলা খাতুনের বাসায় পাঠানো হয়। এরপর থেকে রিনাকে নানাভাবে অত্যাচার শুরু করা হয়। গৃহকর্তীসহ পরিবারের অন্যরা সামান্য কাজে ভুল হলেই রিনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করতেন। প্রায় সময় আমার মেয়ে রিনা তার উপর নির্যাতনের কথা জানালেও আমি অভাবি থাকায় মেয়েকে বুঝিয়ে তাহাদের বাসায় থাকতে বলি। গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামী হাসনা বেগম আমার ছেলে আল আমিনের মোবাইলে ফোন করে জানায় আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নং সড়কের ৪৩ নং বাসা গিয়ে দেখি আমার মেয়ের লাশ সিঁড়ির মেঝেতে পড়ে আছে। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেন। সেই সাথে তাহসান ও জামিলা খাতুন বাসার কোন কাজে ভুল হলে শারীরিকভাবে মারধর করতেন। এছাড়াও অন্যরা তাহাদের পক্ষ নিয়ে আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। মামলার আসামী তাহসানের কুদৃষ্টি ছিল রিনার উপর। এছাড়াও মামলার ১১নং স্বাক্ষী শিরিনা বেগম বাদীকে জানায়, রিনা জীবিত অবস্থায় চিকিৎসক দম্পতির ছেলে তাহসান তাহার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছে। সেই সাথে তাদের অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করায় আসামীদের নির্যাতনে আমার মেয়ের মৃত্যু হয় বলে মামলার বাদী আব্দুল মালিক এজহারে উল্লখ করেন।
নিহত রিনার ভাই আল-আমিন জানান, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় সময় তাকে মারধর করা হত। মারপিঠের কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। রিনার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডাক্তার জামিলার ছোট ছেলে আমার বোনকে খুব বেশি অত্যাচার করতো। আমার বোন খুব সহজ-সরল ও খুব ভালো একটা মেয়ে। সে কখনই আত্মহত্যা করবে না। আমরা আদালতে মামলা করেছি। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে পরিকল্পিতভাবে তাদের বিচার চাই।