জবানবন্দি দিতে নারাজ কনস্টেবল হারুন

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বরখাস্তকৃত কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য পিবিআই তাকে আদালতে হাজির করলে কনস্টেবল হারুন আদালতে জবানবন্দী দিতে অস্বীকৃতি জানান। পিবিআই দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডসহ মোট ৮দিনের রিমান্ড শেষে সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াদুর রহমান আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, কনস্টেবল হারুনকে প্রথমে পাঁচ দিনের এবং পরে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে নিয়ে আসলে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। ফলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে পুলিশ লাইন্স থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন শনিবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলা প্রথম দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াদুর রহমান। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন এএসআই আশেক এলাহী ও কনস্টেবল হারুনুর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস। গত ১১ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে রায়হানকে সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে পুলিশ। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রায়হান গুরুতর আহতবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহীসহ পুলিশ সদ্যসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি পরদিন হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে থানায় মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত কার্যক্রম চালায়। নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। এতে রায়হানের শরীরে ১১৩টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এরইমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর পলাতক থাকলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গত ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা। এছাড়া গত রোববার নিহত রায়হানকে ছিনতাকারী হিসেবে অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমানকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।