সিলেটে চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুনের বাসায় জান্নাত আক্তার রিনা (১৪) নামের এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ শনিবার দুপুরে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নং সড়কের ৪৩ নং বাসা থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনা (১৪) কোম্পানীগঞ্জের বতুমারা গ্রামের আবদুল মালিকের মেয়ে। এদিকে, রিনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার। তবে ডাক্তার জামিলা বলছেন, এটি আত্মহত্যা।

পুলিশ জানায়, গাইনি চিকিৎসক জামিলা খাতুনের বাসায় সাড়ে ৭ বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতো রিনা। শনিবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান ঘরের কাজে নিয়োজিত অন্যরা। ডা. জামিলার মেয়েসহ বাসার অন্য কাজের লোকেরা মিলে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নিচে নামান। পরে ওই নারী চিকিৎকের খবরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত রিনার ভাই আল-আমিন জানান, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় সময় তাকে মারধর করা হত। মারপিঠের কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। লিনার গলায় গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডাক্তার জামিলার ছোট ছেলে আমার বোনকে খুব বেশি অত্যাচার করতো। আমার বোন খুব সহজ-সরল ও খুব ভালো একটা মেয়ে। সে কখনই আত্মহত্যা করবে না।

এ বিষয়ে জানতে ডাক্তার জামিলা জানান, রিনা খুবই ভালো একটা মেয়ে। তার আত্মহত্যা করার কোন কারণই আমাদের জানা নেই। আমাদের পরিবারের সবার সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরাও তাকে সন্তানদের মত স্নেহ করি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিঞা বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়না তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কেননা কিশোরীর গলার নীচে দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।