সরকার বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্ট :: দালালদের মাধ্যমে প্রবাসে যারা গিয়েছেন তাদের দুর্ভোগ আর কষ্টের শেষ নেই। এজন্য সবাইকে দালালদের দেয়া প্রলোভনের ব্যাপারে আরও বেশী সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দালালদের মাধ্যমে অবৈধপথে বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, সরকার বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠি যাতে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দিতে না পারেন, তা প্রতিহত করা প্রয়োজন। দালালদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক গরিব লোক আছেন, যারা দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যান।’
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশ আয়োজিত শহীদ এসপি শামসুল হক মিলনায়তনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইমরান আহমদ বলেন, মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু। কোনও সমস্যা দেখা দিলে সবার আগেই ছুটে যায় পুলিশ। সিলেটে চোরাচালান বেড়েছে; এ জন্য জেলা পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশকে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। সেইসঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশ অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখেন। তাদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা মহামারিতে শেখ হাসিনা সরকার এ দেশের মানুষের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ তিনি এ দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। সবার জীবন রক্ষার জন্য তিনি এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তাহলে আমরা আমাদের পরিবার, সমাজ ও দেশকে রক্ষা করতে পাররো।’ মাস্ক পরার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে জনগণ এবং পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠেছে। যার কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন-মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, ইভটিজিং ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এক কথায় কমিউনিটি পুলিশিং আজ অনেক শক্তিশালী। এর কার্যক্রমে মানুষ সন্তুষ্ঠ। সরকার পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রতিও গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ মানুষের কাছে পৌঁছার আগেই কমিউনিটি পুলিশের সাথে যারা জড়িত তারা ছুটে যান সেবা দিতে। সেই সাথে কমিউনিটি পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্ধন। যে বন্ধনটি দিনে দিনে আরও সুন্দর ও মজবুত হচ্ছে। জেলা পুলিশের থানাগুলোতে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের আগেই বলে দিয়েছি থানায় কেউ আসলে তাকে সম্মান করবেন। এতে করে পুলিশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। ছোটখাটো কোনও ঘটনা ঘটলে তা যদি মীমাংসা হয়ে যায়, তাহলে থানার কোনও পুলিশ অহেতুক হয়রানি করতে পারবে না। প্রয়োজনে পুলিশকে আরও সহযোগিতা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, শাবির সমাজ বিজ্ঞানের প্রফেসর তাহমিনা ইসলাম, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক এ জেড মৌলা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ট কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তা হিসেবে ওসমানীনগর থানার এসআই সুবিনয় বৈদ্য।
অপরদিকে, সিলেট মহানগর পুলিশের উদ্যোগে সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটরিয়ামে কমিউনিটি পুলিশিং ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ-অপরাধ) এহসান উদ্দিন চৌধুরী পিপিএম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (অর্থ ও হিসাব) রাখী রাণী দাশের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ। এসময় তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সিলেট মহানগরী এলাকায় আরও জোরদার করার জন্য সবার সহযোগীতা প্রয়োজন। সবার সহযোগীতায় কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সেই সাথে অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। পুলিশ জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চায়। আর পুলিশের একটি অঙ্গ বলা যায় কমিউনিটি পুলিশিংকে। সকলকে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে সুন্দর সমাজ ব্যবস্থার জন্য কাজ করে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে কমিউনিটি পুলিশ। একে অন্যের পরিপূরক হয়ে কাজ করলেই সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব। যত দ্রুত সম্ভব পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যাকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটা অমানবিক একটি ঘটনা। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া পুলিশকে দ্রুত সময়ের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। করোনাভাইরাসের মহামারিতে পুলিশের অনেক ভূমিকা রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা মানুষের দাফন কাপন করেছে। দেশ সেবার জন্য বিশে^র অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশ তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন করে এমপি বলেন, সিলেটের সংকটময় মূহুর্তে (ক্রাইসিস) সময়ে আপনাকে আনা হয়েছে, সেদিকে আপনার সু-নজর বেশি দিতে হবে। মহানগর পুলিশের আওতাধীন থানা এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটালাইজ করতে হবে। আপনারা উদ্যোগ নেন, সহায়তা করবো। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এনডিসি, সিলেটের এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ সর্ব্বানী অর্জুন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) পরিতোষ ঘোষ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর সহ সভাপতি পুলিশ সুপার (অব:) কাওসার আমহদ হায়দরী।