‘প্রতারণা করে ফ্ল্যাট নিয়েছেন’ আপসানা

ডেস্ক রিপোর্ট
এক বছরও হয়নি তিনি সুনামগঞ্জসহ পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। সুরমার তীরের নির্মল হাওয়ার পরশমাখা আপসানা বেগম গেলো ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ আসন থেকে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হন। লেবার দলের প্রার্থী আপসানা তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী শন ওকের চেয়ে চার গুণ ভোট পেয়ে চমকে দিয়েছিলেন। এবার আরও একবার চমকে দিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট পাওয়ার জন্য প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিনি ‘প্রভাব খাটিয়ে’ লন্ডন কাউন্সিলের তিন লাখ ডলার দামের একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন এবং সঠিক তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে ওই মামলায়। গত বছর ব্রিটিশ নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসন প্রথমবার নির্বাচন করেই জিতে যান ৩০ বছর বয়সী আপসানা, যিনি লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় বাবার পরিবারের সঙ্গে থাকার সময় ফ্ল্যাটের জন্য কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন আপসানা। পরে তিনি বিয়ে করেন এবং ২০১৪ সালে স্বামীর বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু বিচ্ছেদের পর মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি ওই ফ্ল্যাট পেয়ে যান, যদিও তার কোনো সন্তান নেই এবং ফ্ল্যাটের জন্য ১৮ হাজার মানুষের আবেদন জমা পড়ে আছে। আপসানা কীভাবে ওই ফ্ল্যাট পেলেন তা নিয়ে তদন্ত করেছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এর ধারাবহিকতায় তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের মার্চের মধ্যে তিন দফা তিনি সঠিক তথ্য গোপন করে নিজে লাভবান হয়েছেন এবং এর ফলে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলায় টেমস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হাজিরা দেবেন আপসানা বেগম। এক বিবৃতিতে তার আইনজীবী বলেছেন, ওই ‘মিথ্যা’ অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতেই লড়বেন এমপি আপসানা বেগম। আর আপসানার দল লেবার পার্টি এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ প্রার্থী শিউন ওককে প্রায় ২৯ হাজার ভোটে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন লেবার পার্টির প্রার্থী আপসানা। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসে হলেও বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এক সময় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে চাকরি করতেন তিনি। কুইনমেরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতিতে লেখাপড়া করা আপসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন।