নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে অবাধে কাটা হচ্ছে গাছ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: সামাজিক ও পারিবারিক বনায়নের গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নাম করে রাস্তার দু’পাশের গাছগুলোকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন নির্বিচারে কাটা হচ্ছে গাছ। গাছ পরিবেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হলেও পল্লী বিদ্যুতের লোকজন জীবন্ত গাছে মারছে দা-কুড়াল। ফলশ্রæতিতে ২/৩ মাসের মধ্যেই সেই গাছ মরে যাচ্ছে।
উপজেলার পুরোটাই বন বাঁদারে ঠাঁসা। সড়কের ভাঁজে ভাঁজে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সৃজন করেছিলো নানা জাতের বৃক্ষ। দেখতে দেখতে সেই গাছ মুল্যবান সম্পদে পরিনত হয়। পরিবেশকে করে তোলে নির্মল ও শান্ত সুশীতল।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুনারুঘাট-বাল্লা সড়ক, আমুরোড বাজার-আমু চা বাগান সড়কসহ প্রায় দশটি গুরুত্বপুর্র্ণ সড়কের ঘেঁষে ১১ হাজার কেবি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন টানে। বহু স্থানে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন টানানো হয়েছে। সে কারনে কাটা পড়েছে ১৫/২০ বছর আগে লাগানো বৃক্ষ, বৃক্ষের বড় বড় ডাল পালা। এতে প্রকৃতির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ধ্বংশ হচ্ছে পরিবেশ।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে গাছ কাটতেই হবে। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে এমন স্থানের ৩০ ফুটের মধ্যে কোন স্থাপনা করার বিধান নাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমবার গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডালপালা কাটার জন্য কোন অনুমতি নিতে হয় না।
এলাকার পরিবেশবাদিরা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৭০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে। প্রতিটা লাইনই টানা হয়েছে গুরুত্বপুর্ন সড়ক ঘেঁষে। পাহাড়ের গাছ কেটেও বিদূতের লাইন টানানো হয়েছে। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬৪ হাজার।