আশেক এলাহী ও হারুন রিমান্ডে জবানবন্দি দিতে চান না হারুন

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদকে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া এএসআই আশেক এলাহীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়াও একই দিন কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে নেওয়া হলে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেননি। জবানবন্দি না দেয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালতের বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার রাতে মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল পুলিশ লাইন থেকে আশেক এলাহীকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহারকৃত এএসআই আশেক এলাহী গত ১০ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসেন। ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান নিহত হন। পরবর্তীতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) প্রাথমিক তদন্তে আশেককে বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কথিত ছিনতাইয়ের অভিযোগে রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে এনেছিলেন এএসআই আশেক এলাহি। এ বিষয়টি ঘটনার রাতে ফাঁড়িতে থাকা তিনজন কনস্টেবল পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন। এসআই আকবর হোসেন ছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন। এ নিয়ে রায়হান হত্যা মামলায় মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যকে। এর মধ্যে দুজন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ। ৮ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার টিটুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলা সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে আশেক এলাহীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বরখাস্ত কনস্টেবল হারুনুর রশীদকেও বৃহস্পতিবার একই আদালতে তোলা হয়। আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় তার আরও ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিতে থাকে। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত কার্যক্রম চালায়। নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১৩টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে।