‘রায়হান হত্যাকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন’

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত


একাত্তর ডেস্ক

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আখালিয়া নেহারিপাড়ার বাসায় গিয়ে তারা রায়হানের মায়ের সাথে কথা বলেন। এসময় তারা তাকে সান্তনা এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব ভূমিকা রাখার আশ^াস দিয়েছেন। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও তারা মতবিনিময় করেন এবং পরে রায়হানের বাসার সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে তারা বলেন, রায়হান হত্যাকান্ডের সাথে যেহেতু পুলিশ জড়িত, সেহেতু নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ঠ সংশয় রয়েছে। এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি দরকার। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনে জয়ী এ সরকার বিনা বিচারে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
দীর্ঘ ১৮দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রায়হান হত্যা ও অভিযুক্ত আকবর পালিয়ে যাওয়ার দায় সরকারের উপরই বর্তায়। এ দায় এড়ানোর সুযোগ তাদের নেই।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লা কাফি রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য উজ্জল রায়, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির কেন্দ্রীয় সদস্য আকবর খান।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন ও প্রণব জ্যোতি পাল প্রমুখ। কর্মসূচিসমূহ সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ সমন্বয়ক আবু জাফর।
নেতৃবৃন্দ, রায়হান হত্যাসহ সব আসামীকে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিলেটবাসীকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।