মাধবপুরের আতঙ্ক ‘উজ্জ্বল বাহিনী’

মাধবপুর প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মুর্তিমান আতঙ্কের নাম উজ্জ্বল বাহিনী। চুরি, ছিনতাই, মাদক, দাদন ব্যবসা, নারী নির্য়াতন ও দখলবাজীসহ এহেন কাজ নেই যা এ বাহিনী করে না। তাদের ভয়ে কয়েক গ্রামের সাধারন তটস্ত। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের উপর নেমে আসে অত্যাচার ও নির্যাতন। মিথ্যা মামলা দিয়ে করা হয় হয়রানী। অনৈতিক কাজ করে শূন্য থেকে অল্প দিনেই কোটিপতি বনে গেছে উজ্জ্বল বাহিনীর প্রধান উজ্জ্বল। চুরি, ডাকাতি, মাদক, নারী নির্যাতন ও খুনসহ ডজনখানে মামলা ও সাধারন ডায়রি মাথা থাকলের এসবের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় শর্তাধিক মানুষ দাদন ব্যবসার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে এখন পথে বসেছে।
মাধবপুর পৌরশহরের ১নং ওয়ার্ডের গুনি মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল। কয়েক বছর আগের তাদের সামান্য ভিটে বাড়ি ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। এখন তার হাতে কোটি কোটি টাকা, বিশাল সম্পদের মালিক। চুরি-ছিনতাইয়ের মাধ্যমে তাদের অপরাধ জগতে পা রাখা। তাদের বাড়ীর পাশ দিয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ যাতায়াত করার সুবাদে প্রায়ই পথচারীদের টাকা-পয়সা ছিনতাই করে রেখে দেয়। তাদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে ২০১৩ সালে মাধবপুর পৌরসভার মেয়রসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফেলায় এর তেমন কোন প্রতিকার না হওয়ায় পরবর্তীতে উজ্জ্বল তার ৭ সহোদরসহ কয়েক অপরাধী নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করে। শুরু করে মাদক ব্যবসা ও চুরি ছিনতাই। এক পর্যায়ে গড়ে তোলে দাদন ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসহায় লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে সাদা স্টামে স্বাক্ষর রেখে অনেকের ভিটে মাটি জায়গা-জমি নিজের নামে লিখে নেয়। অনেককে ভয়ভীতি ও মারধোর করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। তাদের এহেন আচরণে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উজ্জ্বল বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো জনতা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ সভা করে। সভা শেষে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিবাদী লোকজনের উপর উজ্জ্বল বাহিনী হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরই মধ্যে উজ্জ্বলের প্রতিবন্ধী ভাই রাষ্টু মিয়া নিজবাড়িতে রহস্যজনকভাবে খুন হয়। প্রতিবাদকারীদের ফাঁসাতে রাষ্টু খুনের দায় চাপিয়ে দেয়া হয় সাধারণ জনগণের উপর। তাদের নামে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। মামলা দায়েরের ফলে কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অত্যাচার ও মামলার ফাঁদ থেকে বাচঁতে আন্দিউড়া ও বহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ কয়েকশত মানুষ স্বাক্ষরিত একটি আবেদন দিয়েছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে। আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা রাষ্টু হত্যার সুষ্টু ও নিরেপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনার পর পরই উজ্জ্বল বাহিনী মোটরসাইকেল নিয়ে স্বশস্ত্র মহড়া দেওয়া শুরু করে। এতে এলাকার নারী ও শিশুরা ভয়ে আতংকে আছে। উজ্জ্বল বাহিনীর হাতে অনেক যুবতী ও গৃহবধূ সম্ভমহানীর আশংকায় এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।