দু’দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে টিটু

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে দু’দফা রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার দুপুরে পিবিআই কনস্টেবল টিটুকে সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমানের তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পিবিআই দুদফায় ৩ দিন ও ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল তাকে। এছাড়াও একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে আজ বৃহস্পতিবার পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত টিটুকে দুদফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’ তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছে পিবিআই তদন্ত দল।
গত ১০ অক্টোবর রাতে আখালিয়া-নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ফোনে পরিবারের সদস্যদের টাকা নিয়ে আসতে বলেন রায়হান। ১১ অক্টোবর সকালে ৫ হাজার টাকা নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে শুনেন রায়হান মারা গেছেন। হত্যার অভিযোগ উঠে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। এরপর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর রোববার থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন। এরপর আকবরসহ ৪ পুলিশকে বরখান্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর ফাঁড়িতে অবস্থান করলেও ১২ অক্টোবর বিকেল থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন আর পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরীর কাস্টঘর, মশরাফিয়া রেস্টুরেন্ট ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে এবং কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৪টি গুরুতর আঘাত উল্লেখ করে ময়না তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, রায়হানের দুইটি আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়। নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ফাঁড়ির ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও গায়েব, তথ্য গোপন করাসহ বরখাস্ত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করার দায়ে পরে ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ পদে থাকা এসআই হাসান উদ্দিনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় পরে গ্রেপ্তার করা হয় বরখাস্তকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশীদকে।